প্রকাশ :
২৪খবর বিডি: 'পদ্মা সেতুর নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণের বিষয়ে সংসদেও কথা বললেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু তাতেও প্রধানমন্ত্রীর সাড়া মেলেনি। পরে হতাশা প্রকাশ করে সংসদে গানের কলি আওড়ালেন কাদের। '
বুধবার (৮ জুন) সংসদে পদ্মা সেতু নিয়ে এক সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় ওবায়দুল কাদের সেতুর নাম প্রধানমন্ত্রীর নামে করার প্রস্তাব দেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ''আমি এখনও বলছি পদ্মা সেতুর নাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে করা হোক। না হলে আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকব।''
এসময় সংসদ সদস্যরা তার সমর্থনে টেবিল চাপড়ান। সংসদ কক্ষে উপস্থিত শেখ হাসিনা তখন ইশারা করে কাদেরকে থামতে বলেন।
কাদের বলেন, ''এখন আর কী করব।’ যদি কাগজে লেখো নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে/পাথরে লেখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/ হৃদয়ে লেখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে।''
'পদ্মা সেতুকে সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।'
-তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে প্রমাণ করেছেন আমরা চোর নই, আমরা বীরের জাতি।”
সংসদে গানের কলি আওড়ালেন কাদের
-এর আগে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের প্রশ্ন করা উচিত তারা যে ক্ষতি করেছে তা কিভাবে পুষিয়ে দেবে।”
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা যেন নাকে খত দিয়ে পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান, সেটা দেখার জন্য তিনি বেঁচে আছেন।
-৬ কিলোমিটারে বেশি দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ। আগামী ২৫ জুন তা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
'দক্ষিণ জনপদের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এই সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার দাবি ছিল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। নানা অঙ্গন থেকে তাতে সমর্থনও আসে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাতে সায় দেননি। পরে সেতু বিভাগ এই সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশ করে।'
পদ্মা নদীর বুকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করেছিলেন শেখ হাসিনা।
-এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। মাঝে ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর।
'করোনাভাইরাস মহামারি আর বন্যার মধ্যেও কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়।'